আল ফাজর-ভোরবেলা

সূরা:৮৯ ,পারা:৩০ ,পৃষ্ঠা:৫৯৩ ,আয়াত ৩০।

[১]

وَالفَجرِ


কসম ভোরবেলার।

[২]

وَلَيالٍ عَشرٍ


কসম দশ রাতের।

[৩]

وَالشَّفعِ وَالوَترِ


কসম জোড় ও বিজোড়ের।

[৪]

وَاللَّيلِ إِذا يَسرِ


কসম রাতের, যখন তা বিদায় নেয়।

[৫]

هَل في ذلِكَ قَسَمٌ لِذي حِجرٍ


এর মধ্যে কি বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য কসম আছে?

[৬]

أَلَم تَرَ كَيفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعادٍ


তুমি কি দেখনি তোমার রব কিরূপ আচরণ করেছেন ‘আদ জাতির সাথে?

[৭]

إِرَمَ ذاتِ العِمادِ


ইরাম গোত্রের সাথে, যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী?

[৮]

الَّتي لَم يُخلَق مِثلُها فِي البِلادِ


যার সমতুল্য কোন দেশে সৃষ্টি করা হয়নি।

[৯]

وَثَمودَ الَّذينَ جابُوا الصَّخرَ بِالوادِ


আর সামূদ সম্প্রদায়, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছিল?

[১০]

وَفِرعَونَ ذِي الأَوتادِ


আর ফির‘আউন, সেনাছাউনীর অধিপতি?

[১১]

الَّذينَ طَغَوا فِي البِلادِ

বায়ান ফাউন্ডেশন:
যারা সকল দেশে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

[১২]

فَأَكثَروا فيهَا الفَسادَ


অতঃপর তারা সেখানে বিপর্যয় বাড়িয়ে দিয়েছিল।

[১৩]

فَصَبَّ عَلَيهِم رَبُّكَ سَوطَ عَذابٍ


ফলে তোমার রব তাদের উপর আযাবের কশাঘাত মারলেন।

[১৪]

إِنَّ رَبَّكَ لَبِالمِرصادِ


নিশ্চয় তোমার রব ঘাঁটিতেই।* \n\n*مرصاد অর্থ ঘাঁটি, যেখানে কোন লোক তার শত্রুর অজান্তে তার অপেক্ষায় ওঁত পেতে থাকে এবং শত্রুকে বাগে পেয়েই আক্রমণ করে। এখানে আল্লাহর ক্ষেত্রে শব্দটি সতর্ক দৃষ্টি রাখা, অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

[১৫]

فَأَمَّا الإِنسانُ إِذا مَا ابتَلاهُ رَبُّهُ فَأَكرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقولُ رَبّي أَكرَمَنِ


আর মানুষ তো এমন যে, যখন তার রব তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর তাকে সম্মান দান করেন এবং অনুগ্রহ প্রদান করেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন।

[১৬]

وَأَمّا إِذا مَا ابتَلاهُ فَقَدَرَ عَلَيهِ رِزقَهُ فَيَقولُ رَبّي أَهانَنِ


আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার উপর তার রিয্ককে সঙ্কুচিত করে দেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে অপমানিত করেছেন’।

[১৭]

كَلّا بَل لا تُكرِمونَ اليَتيمَ


কখনো নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমদের দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন কর না।

[১৮]

وَلا تَحاضّونَ عَلى طَعامِ المِسكينِ


আর তোমরা মিসকীনদের খাদ্যদানে পরষ্পরকে উৎসাহিত কর না।

[১৯]

وَتَأكُلونَ التُّراثَ أَكلًا لَمًّا


আর তোমরা উত্তরাধিকারের সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে ভক্ষণ কর।

[২০]

وَتُحِبّونَ المالَ حُبًّا جَمًّا


আর তোমরা ধন-সম্পদকে অতিশয় ভালবাস।

[২১]

كَلّا إِذا دُكَّتِ الأَرضُ دَكًّا دَكًّا


কখনো নয়, যখন যমীনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে পরিপূর্ণভাবে।

[২২]

وَجاءَ رَبُّكَ وَالمَلَكُ صَفًّا صَفًّا


আর তোমার রব ও ফেরেশতাগণ উপস্থিত হবেন সারিবদ্ধভাবে।

[২৩]

وَجِيءَ يَومَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَومَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الإِنسانُ وَأَنّى لَهُ الذِّكرى


আর সেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার কী উপকারে আসবে?

[২৪]

يَقولُ يا لَيتَني قَدَّمتُ لِحَياتي


সে বলবে, ‘হায়! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার এ জীবনের জন্য’!

[২৫]

فَيَومَئِذٍ لا يُعَذِّبُ عَذابَهُ أَحَدٌ


অতঃপর সেদিন তাঁর আযাবের মত আযাব কেউ দিতে পারবে না।

[২৬]

وَلا يوثِقُ وَثاقَهُ أَحَدٌ


আর কেউ তাঁর বাঁধার মত বাঁধতে পারবে না।

[২৭]

يا أَيَّتُهَا النَّفسُ المُطمَئِنَّةُ


হে প্রশান্ত আত্মা!

[২৮]

ارجِعي إِلى رَبِّكِ راضِيَةً مَرضِيَّةً


তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে।

[২৯]

فَادخُلي في عِبادي


অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও।

[৩০]

وَادخُلي جَنَّتي


আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।

Leave a comment