আন্ নাবা-মহাসংবাদ

সূরা:৭৮ ,পারা:৩০ ,পৃষ্ঠা:৫৮২ ,আয়াত ৪০।

[১]

عَمَّ يَتَساءَلونَ


কোন্ বিষয় সম্পর্কে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে ?

[২]

عَنِ النَّبَإِ العَظيمِ


মহাসংবাদটি সম্পর্কে,

[৩]

الَّذي هُم فيهِ مُختَلِفونَ


যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে।

[৪]

كَلّا سَيَعلَمونَ


কখনো না, অচিরেই তারা জানতে পারবে।

[৫]

ثُمَّ كَلّا سَيَعلَمونَ


তারপর কখনো না, তারা অচিরেই জানতে পারবে।

[৬]

أَلَم نَجعَلِ الأَرضَ مِهادًا

[৭]


আমি কি বানাইনি যমীনকে শয্যা?

وَالجِبالَ أَوتادًا


আর পর্বতসমূহকে পেরেক?

[৮]

وَخَلَقناكُم أَزواجًا


আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।

[৯]

وَجَعَلنا نَومَكُم سُباتًا


আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম।

[১০]

وَجَعَلنَا اللَّيلَ لِباسًا


আর আমি রাতকে করেছি আবরণ।

[১১]

وَجَعَلنَا النَّهارَ مَعاشًا


আর আমি দিনকে করেছি জীবিকার্জনের সময়।

[১২]

وَبَنَينا فَوقَكُم سَبعًا شِدادًا


আর আমি তোমাদের উপরে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ।

[১৩]

وَجَعَلنا سِراجًا وَهّاجًا


আর আমি সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল একটি প্রদীপ।

[১৪]

وَأَنزَلنا مِنَ المُعصِراتِ ماءً ثَجّاجًا


আর আমি মেঘমালা থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করেছি।

[১৫]

لِنُخرِجَ بِهِ حَبًّا وَنَباتًا


যাতে তা দিয়ে আমি শস্য ও উদ্ভিদ উৎপন্ন করতে পারি।

[১৬]

وَجَنّاتٍ أَلفافًا


আর ঘন উদ্যানসমূহ।

[১৭]

إِنَّ يَومَ الفَصلِ كانَ ميقاتًا


নিশ্চয় ফয়সালার দিন নির্ধারিত আছে।

[১৮]

يَومَ يُنفَخُ فِي الصّورِ فَتَأتونَ أَفواجًا


সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে আসবে।

[১৯]

وَفُتِحَتِ السَّماءُ فَكانَت أَبوابًا


আর আসমান খুলে দেয়া হবে, ফলে তা হবে বহু দ্বারবিশিষ্ট।

[২০]

وَسُيِّرَتِ الجِبالُ فَكانَت سَرابًا


আর পর্বতসমূহকে চলমান করা হবে, ফলে সেগুলো মরীচিকা হয়ে যাবে।

[২১]

إِنَّ جَهَنَّمَ كانَت مِرصادًا


নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ফাঁদ।

[২২]

لِلطّاغينَ مَآبًا


সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তন স্থল।

[২৩]

لابِثينَ فيها أَحقابًا


সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।

[২৪]

لا يَذوقونَ فيها بَردًا وَلا شَرابًا


সেখানে তারা কোন শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়।

[২৫]

إِلّا حَميمًا وَغَسّاقًا


ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া।

[২৬]

جَزاءً وِفاقًا


উপযুক্ত প্রতিফলস্বরূপ।

[২৭]

إِنَّهُم كانوا لا يَرجونَ حِسابًا


নিশ্চয় তারা হিসাবের আশা করত না।

[২৮]

وَكَذَّبوا بِآياتِنا كِذّابًا


আর তারা আমার আয়াতসমূহকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছিল।

[২৯]

وَكُلَّ شَيءٍ أَحصَيناهُ كِتابًا


আর সব কিছুই আমি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করেছি।

[৩০]

فَذوقوا فَلَن نَزيدَكُم إِلّا عَذابًا


সুতরাং তোমরা স্বাদ গ্রহণ কর। আর আমি তো কেবল তোমাদের আযাবই বৃদ্ধি করব।

[৩১]

إِنَّ لِلمُتَّقينَ مَفازًا


নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সফলতা।

[৩২]

حَدائِقَ وَأَعنابًا


উদ্যানসমূহ ও আঙ্গুরসমূহ।

[৩৩]

وَكَواعِبَ أَترابًا


আর সমবয়স্কা উদ্‌ভিন্ন যৌবনা তরুণী।

[৩৪]

وَكَأسًا دِهاقًا


আর পরিপূর্ণ পানপাত্র।

[৩৫]

لا يَسمَعونَ فيها لَغوًا وَلا كِذّابًا


তারা সেখানে কোন অসার ও মিথ্যা কথা শুনবে না।

[৩৬]

جَزاءً مِن رَبِّكَ عَطاءً حِسابًا


তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রতিফল, যথোচিত দানস্বরূপ।

[৩৭]

رَبِّ السَّماواتِ وَالأَرضِ وَما بَينَهُمَا الرَّحمنِ لا يَملِكونَ مِنهُ خِطابًا


যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, পরম করুণাময়। তারা তাঁর সামনে কথা বলার সামর্থ্য রাখবে না।

[৩৮]

يَومَ يَقومُ الرّوحُ وَالمَلائِكَةُ صَفًّا لا يَتَكَلَّمونَ إِلّا مَن أَذِنَ لَهُ الرَّحمنُ وَقالَ صَوابًا


সেদিন রূহ* ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন সে ছাড়া অন্যরা কোন কথা বলবে না। আর সে সঠিক কথাই বলবে। \n\n*হযরত জিবরীল (আঃ)।

[৩৯]

ذلِكَ اليَومُ الحَقُّ فَمَن شاءَ اتَّخَذَ إِلى رَبِّهِ مَآبًا


ঐ দিনটি সত্য। অতএব যে চায়, সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক।

[৪০]

إِنّا أَنذَرناكُم عَذابًا قَريبًا يَومَ يَنظُرُ المَرءُ ما قَدَّمَت يَداهُ وَيَقولُ الكافِرُ يا لَيتَني كُنتُ تُرابًا


নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে একটি নিকটবর্তী আযাব সম্পর্কে সতর্ক করলাম। যেদিন মানুষ দেখতে পাবে, তার দু’হাত কী অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কাফির বলবে ‘হায়, আমি যদি মাটি হতাম’!

Leave a comment