আন নাযিয়াত-প্রচেষ্টাকারী

সূরা:৭৯ ,পারা:৩০ ,পৃষ্ঠা:৫৮৩ ,আয়াত ৪৬।

[১]

وَالنّازِعاتِ غَرقًا


কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* \n\n* ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।

[২]

وَالنّاشِطاتِ نَشطًا


আর কসম সহজভাবে বন্ধনমুক্তকারীদের।

[৩]

وَالسّابِحاتِ سَبحًا


আর কসম দ্রুতগতিতে সন্তরণকারীদের।

[৪]

فَالسّابِقاتِ سَبقًا


আর দ্রুতবেগে অগ্রসরমানদের।

[৫]

فَالمُدَبِّراتِ أَمرًا


অতঃপর কসম সকল কার্যনির্বাহকারীদের।

[৬]

يَومَ تَرجُفُ الرّاجِفَةُ


সেদিন কম্পনকারী* প্রকম্পিত করবে। \n\n*অর্থাৎ প্রথম শিংগাধ্বনি।

[৭]

تَتبَعُهَا الرّادِفَةُ


তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী।* \n\n*দ্বিতীয় শিংগাধ্বনি।

[৭৮]

قُلوبٌ يَومَئِذٍ واجِفَةٌ


সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-সন্ত্রস্ত হবে।

[৯]

أَبصارُها خاشِعَةٌ


তাদের দৃষ্টিসমূহ নত হবে।

[১০]

يَقولونَ أَإِنّا لَمَردودونَ فِي الحافِرَةِ


তারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই,

[১১]

أَإِذا كُنّا عِظامًا نَخِرَةً


যখন আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হাড় হয়ে যাব’?

[১২]

قالوا تِلكَ إِذًا كَرَّةٌ خاسِرَةٌ


তারা বলে, ‘তাহলে তা তো এক ক্ষতিকর প্রত্যাবর্তন’।

[১৩]

فَإِنَّما هِيَ زَجرَةٌ واحِدَةٌ


আর ওটা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ।

[১৪]

فَإِذا هُم بِالسّاهِرَةِ


তৎক্ষনাৎ তারা ভূ-পৃষ্ঠে উপস্থিত হবে।

[১৫]

هَل أَتاكَ حَديثُ موسى


মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?

[১৬]

إِذ ناداهُ رَبُّهُ بِالوادِ المُقَدَّسِ طُوًى


যখন তার রব তাকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় ডেকেছিলেন,

[১৭]

اذهَب إِلى فِرعَونَ إِنَّهُ طَغى


‘ফির‘আউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে’।

[১৮]

فَقُل هَل لَكَ إِلى أَن تَزَكّى


অতঃপর বল ‘তোমার কি ইচ্ছা আছে যে, তুমি পবিত্র হবে’?

[১৯]

وَأَهدِيَكَ إِلى رَبِّكَ فَتَخشى


‘আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’

[২০]

فَأَراهُ الآيَةَ الكُبرى


অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল।

[২১]

فَكَذَّبَ وَعَصى


কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং অমান্য করল।

[২২]

ثُمَّ أَدبَرَ يَسعى


তারপর সে ফাসাদ করার চেষ্টায় প্রস্থান করল।

[২৩]

فَحَشَرَ فَنادى


অতঃপর সে লোকদেরকে একত্র করে ঘোষণা দিল।

[২৪]

فَقالَ أَنا رَبُّكُمُ الأَعلى


আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’।

[২৫]

فَأَخَذَهُ اللَّهُ نَكالَ الآخِرَةِ وَالأولى


অবশেষে আল্লাহ তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন।

[২৬]

إِنَّ في ذلِكَ لَعِبرَةً لِمَن يَخشى


নিশ্চয় যে ভয় করে তার জন্য এতে শিক্ষা রয়েছে।

[২৭]

أَأَنتُم أَشَدُّ خَلقًا أَمِ السَّماءُ بَناها


তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন।

[২৮]

رَفَعَ سَمكَها فَسَوّاها


তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন।

[২৯]

وَأَغطَشَ لَيلَها وَأَخرَجَ ضُحاها


আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন।

[৩০]

وَالأَرضَ بَعدَ ذلِكَ دَحاها


এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।

[৩১]

أَخرَجَ مِنها ماءَها وَمَرعاها


তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি।

[৩২]

وَالجِبالَ أَرساها


আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

[৩৩]

مَتاعًا لَكُم وَلِأَنعامِكُم


তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।

[৩৪]

فَإِذا جاءَتِ الطّامَّةُ الكُبرى


অতঃপর যখন মহাপ্রলয় আসবে।

[৩৫]

يَومَ يَتَذَكَّرُ الإِنسانُ ما سَعى


সেদিন মানুষ স্মরণ করবে তা, যা সে চেষ্টা করেছে।

[৩৬]

وَبُرِّزَتِ الجَحيمُ لِمَن يَرى


আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়।

[৩৭]

فَأَمّا مَن طَغى
সুতরাং যে সীমালঙ্ঘন করে।

[৩৮]

وَآثَرَ الحَياةَ الدُّنيا


আর দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়,

[৩৯]

فَإِنَّ الجَحيمَ هِيَ المَأوى


নিশ্চয় জাহান্নাম হবে তার আবাসস্থল।

[৪০]

وَأَمّا مَن خافَ مَقامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفسَ عَنِ الهَوى


আর যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজকে বিরত রাখে,

[৪১]

فَإِنَّ الجَنَّةَ هِيَ المَأوى


নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।

[৪২]

يَسأَلونَكَ عَنِ السّاعَةِ أَيّانَ مُرساها


তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, ‘তা কখন ঘটবে’?

[৪৩]

فيمَ أَنتَ مِن ذِكراها


তা উল্লেখ করার কি জ্ঞান তোমার আছে?

[৪৪]

إِلى رَبِّكَ مُنتَهاها


এর প্রকৃত জ্ঞান তোমার রবের কাছেই।

[৪৫]

إِنَّما أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخشاها


তুমিতো কেবল তাকেই সতর্ককারী, যে একে ভয় করে ।

[৪৬]

كَأَنَّهُم يَومَ يَرَونَها لَم يَلبَثوا إِلّا عَشِيَّةً أَو ضُحاها


যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (দুনিয়ায়) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশী অবস্থান করেনি।

Leave a comment