সূরা:৭৬ ,পারা:২৯ ,পৃষ্ঠা:৫৭৮ ,আয়াত ৩১।
[১]
هَل أَتى عَلَى الإِنسانِ حينٌ مِنَ الدَّهرِ لَم يَكُن شَيئًا مَذكورًا
মানুষের উপর কি কালের এমন কোন ক্ষণ আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
[২]
إِنّا خَلَقنَا الإِنسانَ مِن نُطفَةٍ أَمشاجٍ نَبتَليهِ فَجَعَلناهُ سَميعًا بَصيرًا
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব, ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
[৩]
إِنّا هَدَيناهُ السَّبيلَ إِمّا شاكِرًا وَإِمّا كَفورًا
অবশ্যই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে শোকরকারী অথবা অকৃতজ্ঞ।
[৪]
إِنّا أَعتَدنا لِلكافِرينَ سَلاسِلَ وَأَغلالًا وَسَعيرًا
আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি।
[৫]
إِنَّ الأَبرارَ يَشرَبونَ مِن كَأسٍ كانَ مِزاجُها كافورًا
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানপাত্র থেকে যার মিশ্রণ হবে কাফূর।
[৬]
عَينًا يَشرَبُ بِها عِبادُ اللَّهِ يُفَجِّرونَها تَفجيرًا
এমন এক ঝর্ণা যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এটিকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।
[৭]
يوفونَ بِالنَّذرِ وَيَخافونَ يَومًا كانَ شَرُّهُ مُستَطيرًا
তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুবিস্তৃত।
[৮]
وَيُطعِمونَ الطَّعامَ عَلى حُبِّهِ مِسكينًا وَيَتيمًا وَأَسيرًا
তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে।
[৯]
إِنَّما نُطعِمُكُم لِوَجهِ اللَّهِ لا نُريدُ مِنكُم جَزاءً وَلا شُكورًا
তারা বলে,‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না এবং কোন শোকরও না।
[১০]
إِنّا نَخافُ مِن رَبِّنا يَومًا عَبوسًا قَمطَريرًا
আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি।
[১১]
فَوَقاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذلِكَ اليَومِ وَلَقّاهُم نَضرَةً وَسُرورًا
সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।
[১২]
وَجَزاهُم بِما صَبَروا جَنَّةً وَحَريرًا
আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্রের পুরস্কার প্রদান করবেন।
[১৩]
مُتَّكِئينَ فيها عَلَى الأَرائِكِ لا يَرَونَ فيها شَمسًا وَلا زَمهَريرًا
তারা সেখানে সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক শীত।
[১৪]
وَدانِيَةً عَلَيهِم ظِلالُها وَذُلِّلَت قُطوفُها تَذليلًا
তাদের উপর সন্নিহিত থাকবে উদ্যানের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে।
[১৫]
وَيُطافُ عَلَيهِم بِآنِيَةٍ مِن فِضَّةٍ وَأَكوابٍ كانَت قَواريرا
তাদের চারপাশে আবর্তিত হবে রৌপ্যপাত্র ও স্ফটিক স্বচ্ছ পানপাত্র-
[১৬]
قَواريرَ مِن فِضَّةٍ قَدَّروها تَقديرًا
রূপার ন্যায় শুভ্র স্ফটিক পাত্র; যার পরিমাপ তারা নির্ধারণ করবে।
[১৭]
وَيُسقَونَ فيها كَأسًا كانَ مِزاجُها زَنجَبيلًا
সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে পাত্রভরা আদা-মিশ্রিত সুরা,
[১৮]
عَينًا فيها تُسَمّى سَلسَبيلًا
সেখানকার এক ঝর্ণা যার নাম হবে সালসাবীল।
[১৯]
وَيَطوفُ عَلَيهِم وِلدانٌ مُخَلَّدونَ إِذا رَأَيتَهُم حَسِبتَهُم لُؤلُؤًا مَنثورًا
আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে।
[২০]
وَإِذا رَأَيتَ ثَمَّ رَأَيتَ نَعيمًا وَمُلكًا كَبيرًا
বায়ান ফাউন্ডেশন:
আর তুমি যখন দেখবে তুমি সেখানে দেখতে পাবে স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরাট সাম্রাজ্য।
[২১]
عالِيَهُم ثِيابُ سُندُسٍ خُضرٌ وَإِستَبرَقٌ وَحُلّوا أَساوِرَ مِن فِضَّةٍ وَسَقاهُم رَبُّهُم شَرابًا طَهورًا
তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।
[২২]
إِنَّ هذا كانَ لَكُم جَزاءً وَكانَ سَعيُكُم مَشكورًا
(তাদেরকে বলা হবে) ‘এটিই তোমাদের পুরস্কার; আর তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসাযোগ্য।’
[২৩]
إِنّا نَحنُ نَزَّلنا عَلَيكَ القُرآنَ تَنزيلًا
নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি পর্যায়ক্রমে আল-কুরআন নাযিল করেছি।
[২৪]
فَاصبِر لِحُكمِ رَبِّكَ وَلا تُطِع مِنهُم آثِمًا أَو كَفورًا
অতএব তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্য ধারণ কর এবং তাদের মধ্য থেকে কোন পাপিষ্ঠ বা অস্বীকারকারীর আনুগত্য করো না।
[২৫]
وَاذكُرِ اسمَ رَبِّكَ بُكرَةً وَأَصيلًا
আর সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের নাম স্মরণ কর,
[২৬]
وَمِنَ اللَّيلِ فَاسجُد لَهُ وَسَبِّحهُ لَيلًا طَويلًا
আর রাতের একাংশে তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হও এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।
[২৭]
إِنَّ هؤُلاءِ يُحِبّونَ العاجِلَةَ وَيَذَرونَ وَراءَهُم يَومًا ثَقيلًا
নিশ্চয় এরা দুনিয়ার জীবনকে ভালবাসে আর তাদের সামনে রেখে দেয় এক কঠিন দিন।
[২৮]
نَحنُ خَلَقناهُم وَشَدَدنا أَسرَهُم وَإِذا شِئنا بَدَّلنا أَمثالَهُم تَبديلًا
আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের গ্রন্থি শক্ত করে দিয়েছি আর আমি চাইলে তাদের স্থানে তাদের মত (মানুষ) দিয়ে পরিবর্তন করে দিতে পারি।
[২৯]
إِنَّ هذِهِ تَذكِرَةٌ فَمَن شاءَ اتَّخَذَ إِلى رَبِّهِ سَبيلًا
নিশ্চয় এটি উপদেশ; অতএব যে চায় সে যেন তার রবের দিকে একটি পথ গ্রহণ করে।
[৩০]
وَما تَشاءونَ إِلّا أَن يَشاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَليمًا حَكيمًا
আর আল্লাহ ইচ্ছা না করলে তোমরা ইচ্ছা করবে না; নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রাজ্ঞ।
[৩১]
يُدخِلُ مَن يَشاءُ في رَحمَتِهِ وَالظّالِمينَ أَعَدَّ لَهُم عَذابًا أَليمًا
যাকে ইচ্ছা তিনি স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন এবং যালিমদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
