আল ক্বিয়ামাহ্-পুনরত্থান

সূরা:৭৫ ,পারা:২৯ ,পৃষ্ঠা:৫৭৭ ,আয়াত ৪০।

[১]

لا أُقسِمُ بِيَومِ القِيامَةِ


আমি কসম করছি কিয়ামতের দিনের!

[২]

وَلا أُقسِمُ بِالنَّفسِ اللَّوّامَةِ


আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!

[৩]

أَيَحسَبُ الإِنسانُ أَلَّن نَجمَعَ عِظامَهُ


মানুষ কি মনে করে যে, আমি কখনই তার অস্থিসমূহ একত্র করব না?

[৪]

بَلى قادِرينَ عَلى أَن نُسَوِّيَ بَنانَهُ


হ্যাঁ, আমি তার আংগুলের অগ্রভাগসমূহও পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।

[৫]

بَل يُريدُ الإِنسانُ لِيَفجُرَ أَمامَهُ


বরং মানুষ চায় ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে।

[৬]

يَسأَلُ أَيّانَ يَومُ القِيامَةِ


সে প্রশ্ন করে, ‘কবে কিয়ামতের দিন’?

[৭]

فَإِذا بَرِقَ البَصَرُ


যখন চক্ষু হতচকিত হবে।

[৮]

وَخَسَفَ القَمَرُ


আর চাঁদ কিরণহীন হবে,

[৯]

وَجُمِعَ الشَّمسُ وَالقَمَرُ


আর চাঁদ ও সূর্যকে একত্র করা হবে।

[১০]

يَقولُ الإِنسانُ يَومَئِذٍ أَينَ المَفَرُّ


সেদিন মানুষ বলবে, ‘পালাবার স্থান কোথায়’?

[১১]

كَلّا لا وَزَرَ


না, কোন আশ্রয়স্থল নেই।

[১২]

إِلى رَبِّكَ يَومَئِذٍ المُستَقَرُّ


ঠাঁই শুধু সেদিন তোমার রবের নিকট।

[১৩]

يُنَبَّأُ الإِنسانُ يَومَئِذٍ بِما قَدَّمَ وَأَخَّرَ


সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে কী সে অগ্রে পাঠিয়েছিল এবং পশ্চাতে পাঠিয়েছিল।

[১৪]

بَلِ الإِنسانُ عَلى نَفسِهِ بَصيرَةٌ


বরং মানুষ তার নিজের উপর দৃষ্টিমান।

[১৫]

وَلَو أَلقى مَعاذيرَهُ


যদিও সে নানা অজুহাত পেশ করে থাকে।

[১৬]

لا تُحَرِّك بِهِ لِسانَكَ لِتَعجَلَ بِهِ


কুরআন তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করার উদ্দেশ্যে তুমি তোমার জিহবাকে দ্রুত আন্দোলিত করো না।

[১৭]

إِنَّ عَلَينا جَمعَهُ وَقُرآنَهُ


নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমার দায়িত্বে।

[১৮]

فَإِذا قَرَأناهُ فَاتَّبِع قُرآنَهُ


অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি তখন তুমি তার পাঠের অনুসরণ কর।

[১৯]

ثُمَّ إِنَّ عَلَينا بَيانَهُ


তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব আমারই।

[২০]

كَلّا بَل تُحِبّونَ العاجِلَةَ


কখনো না, বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে ভালবাস।

[২১]

وَتَذَرونَ الآخِرَةَ


আর তোমরা ছেড়ে দিচ্ছ আখিরাতকে।

[২২]

وُجوهٌ يَومَئِذٍ ناضِرَةٌ


সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল।

[২৩]

إِلى رَبِّها ناظِرَةٌ


তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।

[২৪]

وَوُجوهٌ يَومَئِذٍ باسِرَةٌ


আর সেদিন অনেক মুখমন্ডল হবে বিবর্ণ-বিষন্ন।

[২৫]

تَظُنُّ أَن يُفعَلَ بِها فاقِرَةٌ


তারা ধারণা করবে যে, এক বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত করা হবে।

[২৬]

كَلّا إِذا بَلَغَتِ التَّراقِيَ


কখনই না, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে।

[২৭]

وَقيلَ مَن راقٍ


আর বলা হবে, ‘কে তাকে বাঁচাবে’?

[২৮]

وَظَنَّ أَنَّهُ الفِراقُ


আর সে মনে করবে, এটিই বিদায়ক্ষণ।

[২৯]

وَالتَفَّتِ السّاقُ بِالسّاقِ


আর পায়ের গোছার সংগে পায়ের গোছা জড়িয়ে যাবে।

[৩০]

إِلى رَبِّكَ يَومَئِذٍ المَساقُ


সেদিন তোমার রবের কাছেই সকলকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে।

[৩১]

فَلا صَدَّقَ وَلا صَلّى


সুতরাং সে বিশ্বাসও করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি।

[৩২]

وَلكِن كَذَّبَ وَتَوَلّى


বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ফিরে গিয়েছিল।

[৩৩]

ثُمَّ ذَهَبَ إِلى أَهلِهِ يَتَمَطّى


তারপর সে দম্ভভরে পরিবার-পরিজনের কাছে চলে গিয়েছিল।

[৩৪]

أَولى لَكَ فَأَولى


দুর্ভোগ তোমার জন্য এবং দুর্ভোগ!

[৩৫]

ثُمَّ أَولى لَكَ فَأَولى


তারপরও দুর্ভোগ তোমার জন্য এবং দুর্ভোগ!

[৩৬]

أَيَحسَبُ الإِنسانُ أَن يُترَكَ سُدًى


মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে?

[৩৭]

أَلَم يَكُ نُطفَةً مِن مَنِيٍّ يُمنى


সে কি বীর্যের শুক্রবিন্দু ছিল না যা স্খলিত হয়?

[৩৮]

ثُمَّ كانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوّى


অতঃপর সে ‘আলাকায় পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তাকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন।

[৩৯]

فَجَعَلَ مِنهُ الزَّوجَينِ الذَّكَرَ وَالأُنثى


অতঃপর তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেন জোড়ায় জোড়ায় পুরুষ ও নারী।

[৪০]

أَلَيسَ ذلِكَ بِقادِرٍ عَلى أَن يُحيِيَ المَوتى


তিনি কি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন?

Leave a comment