সূরা:৭৭ ,পারা:২৯ ,পৃষ্ঠা:৫৮০ ,আয়াত ৫০।
[১]
وَالمُرسَلاتِ عُرفًا
কসম কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত বাতাসের,
[২]
فَالعاصِفاتِ عَصفًا
আর প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত ঝঞ্ঝার।
[৩]
وَالنّاشِراتِ نَشرًا
কসম মেঘমালা ও বৃষ্টি বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর,
[৪]
فَالفارِقاتِ فَرقًا
আর সুস্পষ্টরূপে পার্থক্যকারীর (আল-কুরআনের আয়াতের)।
[৫]
فَالمُلقِياتِ ذِكرًا
অতঃপর কসম, উপদেশগ্রন্থ আনয়নকারী (ফেরেশতাদের),
[৬]
عُذرًا أَو نُذرًا
অজুহাত দূরকারী ও সতর্ককারী।
[৭]
إِنَّما توعَدونَ لَواقِعٌ
তোমাদেরকে যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে।
[৮]
فَإِذَا النُّجومُ طُمِسَت
যখন তারকারাজি আলোহীন হবে,
[৯]
وَإِذَا السَّماءُ فُرِجَت
আর আকাশ বিদীর্ণ হবে,
[১০]
وَإِذَا الجِبالُ نُسِفَت
আর যখন পাহাড়গুলি চূর্ণবিচূর্ণ হবে,
[১১]
وَإِذَا الرُّسُلُ أُقِّتَت
আর যখন রাসূলদেরকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে;
[১২]
لِأَيِّ يَومٍ أُجِّلَت
কোন্ দিনের জন্য এসব স্থগিত করা হয়েছিল?
[১৩]
لِيَومِ الفَصلِ
বিচার দিনের জন্য।
[১৪]
وَما أَدراكَ ما يَومُ الفَصلِ
আর কিসে তোমাকে জানাবে বিচার দিবস কী?
[১৫]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[১৬]
أَلَم نُهلِكِ الأَوَّلينَ
আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি?
[১৭]
ثُمَّ نُتبِعُهُمُ الآخِرينَ
তারপর পরবর্তীদেরকে তাদের অনুসারী বানাই।
[১৮]
كَذلِكَ نَفعَلُ بِالمُجرِمينَ
অপরাধীদের সাথে আমি এমনই করে থাকি।
[১৯]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস!
[২০]
أَلَم نَخلُقكُم مِن ماءٍ مَهينٍ
আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি দিয়ে সৃষ্টি করিনি?
[২১]
فَجَعَلناهُ في قَرارٍ مَكينٍ
অতঃপর তা আমি রেখেছি সুরক্ষিত আধারে
[২২]
إِلى قَدَرٍ مَعلومٍ
একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
[২৩]
فَقَدَرنا فَنِعمَ القادِرونَ
অতঃপর আমি পরিমাপ করেছি। আর আমিই উত্তম পরিমাপকারী।
[২৪]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[২৫]
أَلَم نَجعَلِ الأَرضَ كِفاتًا
আমি কি ভূমিকে ধারণকারী বানাইনি
[২৬]
أَحياءً وَأَمواتًا
জীবিত ও মৃতদেরকে?
[২৭]
وَجَعَلنا فيها رَواسِيَ شامِخاتٍ وَأَسقَيناكُم ماءً فُراتًا
আর এখানে স্থাপন করেছি সুদৃঢ় ও সুউচ্চ পর্বত এবং তোমাদেরকে পান করিয়েছি সুপেয় পানি।
[২৮]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[২৯]
انطَلِقوا إِلى ما كُنتُم بِهِ تُكَذِّبونَ
(তাদেরকে বলা হবে), তোমরা যা অস্বীকার করতে সেদিকে গমন কর।
[৩০]
انطَلِقوا إِلى ظِلٍّ ذي ثَلاثِ شُعَبٍ
যাও তিন শাখা বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়,
[৩১]
لا ظَليلٍ وَلا يُغني مِنَ اللَّهَبِ
যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোন কাজেও আসবে না।
[৩২]
إِنَّها تَرمي بِشَرَرٍ كَالقَصرِ
নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ।
[৩৩]
كَأَنَّهُ جِمالَتٌ صُفرٌ
তা যেন হলুদ উষ্ট্রী।
[৩৪]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[৩৫]
هذا يَومُ لا يَنطِقونَ
এটা এমন দিন যেদিন তারা কথা বলবে না।
[৩৬]
وَلا يُؤذَنُ لَهُم فَيَعتَذِرونَ
আর তাদেরকে অজুহাত পেশ করার অনুমতিও দেয়া হবে না ।
[৩৭]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস!
[৩৮]
هذا يَومُ الفَصلِ جَمَعناكُم وَالأَوَّلينَ
এটি ফয়সালার দিন; তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তীদেরকে আমি একত্র করেছি।
[৩৯]
فَإِن كانَ لَكُم كَيدٌ فَكيدونِ
তোমাদের কোন কৌশল থাকলে আমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ কর।
[৪০]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[৪১]
إِنَّ المُتَّقينَ في ظِلالٍ وَعُيونٍ
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া ও ঝর্ণাবহুল স্থানে,
[৪২]
وَفَواكِهَ مِمّا يَشتَهونَ
আর নিজদের বাসনানুযায়ী ফলমূল-এর মধ্যে।
[৪৩]
كُلوا وَاشرَبوا هَنيئًا بِما كُنتُم تَعمَلونَ
(তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা যে আমল করতে তার প্রতিদানস্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার কর;
[৪৪]
إِنّا كَذلِكَ نَجزِي المُحسِنينَ
সৎকর্মশীলদের আমরা এমন-ই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
[৪৫]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[৪৬]
كُلوا وَتَمَتَّعوا قَليلًا إِنَّكُم مُجرِمونَ
(হে কাফিররা!) তোমরা আহার কর এবং ভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তোমরা অপরাধী।
[৪৭]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস!
[৪৮]
وَإِذا قيلَ لَهُمُ اركَعوا لا يَركَعونَ
তাদেরকে যখন বলা হয় ‘রুকূ‘ কর,’ তখন তারা রুকূ‘ করত না।
[৪৯]
وَيلٌ يَومَئِذٍ لِلمُكَذِّبينَ
মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!
[৫০]
فَبِأَيِّ حَديثٍ بَعدَهُ يُؤمِنونَ
সুতরাং কুরআনের পরিবর্তে আর কোন্ বাণীর প্রতি তারা ঈমান আনবে?
