আল ওয়াক্বিয়াহ্-নিশ্চিত ঘটনা

সূরা:৫৬ ,পারা:২৭ ,পৃষ্ঠা:৫৩৪ ,আয়াত ৯৬।

[১]

إِذا وَقَعَتِ الواقِعَةُ


যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।

[২]

لَيسَ لِوَقعَتِها كاذِبَةٌ


তার সংঘটনের কোনই অস্বীকারকারী থাকবে না।

[৩]

خافِضَةٌ رافِعَةٌ


তা কাউকে ভূলুণ্ঠিত করবে এবং কাউকে করবে সমুন্নত।

[৪]

إِذا رُجَّتِ الأَرضُ رَجًّا


যখন যমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে।

[৫]

وَبُسَّتِ الجِبالُ بَسًّا


আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে।

[৬]

فَكانَت هَباءً مُنبَثًّا


অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।

[৭]

وَكُنتُم أَزواجًا ثَلاثَةً


আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে।

[৮]

فَأَصحابُ المَيمَنَةِ ما أَصحابُ المَيمَنَةِ


সুতরাং ডান পার্শ্বের দল, ডান পার্শ্বের দলটি কত সৌভাগ্যবান!

[৯]

وَأَصحابُ المَشأَمَةِ ما أَصحابُ المَشأَمَةِ


আর বাম পার্শ্বের দল, বাম পার্শ্বের দলটি কত হতভাগ্য!

[১০]

وَالسّابِقونَ السّابِقونَ


আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।

[১১]

أُولئِكَ المُقَرَّبونَ


তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত।

[১২]

في جَنّاتِ النَّعيمِ


তারা থাকবে নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে ।

[১৩]

ثُلَّةٌ مِنَ الأَوَّلينَ


বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

[১৪]

وَقَليلٌ مِنَ الآخِرينَ


আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

[১৫]

عَلى سُرُرٍ مَوضونَةٍ


স্বর্ণ ও দামী পাথরখচিত আসনে!

[১৬]

مُتَّكِئينَ عَلَيها مُتَقابِلينَ


তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়।

[১৭]

يَطوفُ عَلَيهِم وِلدانٌ مُخَلَّدونَ


তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা,

[১৮]

بِأَكوابٍ وَأَباريقَ وَكَأسٍ مِن مَعينٍ


পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে,

[১৯]

لا يُصَدَّعونَ عَنها وَلا يُنزِفونَ


তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে।

[২০]

وَفاكِهَةٍ مِمّا يَتَخَيَّرونَ


আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে।

[২১]

وَلَحمِ طَيرٍ مِمّا يَشتَهونَ


আর পাখির গোশ্‌ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে।

[২২]

وَحورٌ عينٌ


আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,

[২৩]

كَأَمثالِ اللُّؤلُؤِ المَكنونِ


যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,

[২৪]

جَزاءً بِما كانوا يَعمَلونَ


তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।

[২৫]

لا يَسمَعونَ فيها لَغوًا وَلا تَأثيمًا


তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা;

[২৬]

إِلّا قيلًا سَلامًا سَلامًا


শুধু এই বাণী ছাড়া, ‘সালাম, সালাম’

[২৭]

وَأَصحابُ اليَمينِ ما أَصحابُ اليَمينِ


আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!

[২৮]

في سِدرٍ مَخضودٍ


তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,

[২৯]

وَطَلحٍ مَنضودٍ


আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,

[৩০]

وَظِلٍّ مَمدودٍ


আর বিস্তৃত ছায়ায়,

[৩১]

وَماءٍ مَسكوبٍ


আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে,

[৩২]

وَفاكِهَةٍ كَثيرَةٍ


আর প্রচুর ফলমূলে,

[৩৩]

لا مَقطوعَةٍ وَلا مَمنوعَةٍ


যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।

[৩৪]

وَفُرُشٍ مَرفوعَةٍ


(তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;

[৩৫]

إِنّا أَنشَأناهُنَّ إِنشاءً


নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।

[৩৬]

فَجَعَلناهُنَّ أَبكارًا


অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,

[৩৭]

عُرُبًا أَترابًا


সোহাগিনী ও সমবয়সী।

[৩৮]

لِأَصحابِ اليَمينِ


ডানদিকের লোকদের জন্য।

[৩৯]

ثُلَّةٌ مِنَ الأَوَّلينَ


তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

[৪০]

وَثُلَّةٌ مِنَ الآخِرينَ


আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

[৪১]

وَأَصحابُ الشِّمالِ ما أَصحابُ الشِّمالِ


আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!

[৪২]

في سَمومٍ وَحَميمٍ


তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে,

[৪৩]

وَظِلٍّ مِن يَحمومٍ


আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,

[৪৪]

لا بارِدٍ وَلا كَريمٍ


যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়।

[৪৫]

إِنَّهُم كانوا قَبلَ ذلِكَ مُترَفينَ


নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল,

[৪৬]

وَكانوا يُصِرّونَ عَلَى الحِنثِ العَظيمِ


আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।

[৪৭]

وَكانوا يَقولونَ أَئِذا مِتنا وَكُنّا تُرابًا وَعِظامًا أَإِنّا لَمَبعوثونَ


আর তারা বলত, ‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?’

[৪৮]

أَوَآباؤُنَا الأَوَّلونَ


‘আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?’

[৪৯]

قُل إِنَّ الأَوَّلينَ وَالآخِرينَ


বল, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,

[৫০]

لَمَجموعونَ إِلى ميقاتِ يَومٍ مَعلومٍ


এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র হবে’।

[৫১]

ثُمَّ إِنَّكُم أَيُّهَا الضّالّونَ المُكَذِّبونَ


তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা,

[৫২]

لَآكِلونَ مِن شَجَرٍ مِن زَقّومٍ


তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে,

[৫৩]

فَمالِئونَ مِنهَا البُطونَ


অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।

[৫৪]

فَشارِبونَ عَلَيهِ مِنَ الحَميمِ


তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি।

[৫৫]

فَشارِبونَ شُربَ الهيمِ


অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।

[৫৬]

هذا نُزُلُهُم يَومَ الدّينِ


প্রতিফল দিবসে এই হবে তাদের মেহমানদারী,

[৫৭]

نَحنُ خَلَقناكُم فَلَولا تُصَدِّقونَ


আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি: তাহলে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না?

[৫৮]

أَفَرَأَيتُم ما تُمنونَ


তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীর্যপাত করছ সে সম্পর্কে?

[৫৯]

أَأَنتُم تَخلُقونَهُ أَم نَحنُ الخالِقونَ


তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?

[৬০]

نَحنُ قَدَّرنا بَينَكُمُ المَوتَ وَما نَحنُ بِمَسبوقينَ


আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না,

[৬১]

عَلى أَن نُبَدِّلَ أَمثالَكُم وَنُنشِئَكُم في ما لا تَعلَمونَ


তোমাদের স্থানে তোমাদের বিকল্প আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।

[৬২]

وَلَقَد عَلِمتُمُ النَّشأَةَ الأولى فَلَولا تَذَكَّرونَ


আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ, তবে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না?

[৬৩]

أَفَرَأَيتُم ما تَحرُثونَ


তোমরা আমাকে বল, তোমরা যমীনে যা বপন কর সে ব্যাপারে,

[৬৪]

أَأَنتُم تَزرَعونَهُ أَم نَحنُ الزّارِعونَ


তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?

[৬৫]

لَو نَشاءُ لَجَعَلناهُ حُطامًا فَظَلتُم تَفَكَّهونَ


আমি চাইলে তা খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে-

[৬৬]

إِنّا لَمُغرَمونَ


(এই বলে,) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম’।

[৬৭]

بَل نَحنُ مَحرومونَ


‘বরং আমরা মাহরূম হয়েছি’।

[৬৮]

أَفَرَأَيتُمُ الماءَ الَّذي تَشرَبونَ


তোমরা যে পানি পান কর সে ব্যাপারে আমাকে বল।

[৬৯]

أَأَنتُم أَنزَلتُموهُ مِنَ المُزنِ أَم نَحنُ المُنزِلونَ


বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ কর, না আমি বৃষ্টি বর্ষণকারী?

[৭০]

لَو نَشاءُ جَعَلناهُ أُجاجًا فَلَولا تَشكُرونَ


ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি: তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?

[৭১]

أَفَرَأَيتُمُ النّارَ الَّتي تورونَ


তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে ব্যাপারে আমাকে বল,

[৭২]

أَأَنتُم أَنشَأتُم شَجَرَتَها أَم نَحنُ المُنشِئونَ


তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন কর, না আমি করি?

[৭৩]

نَحنُ جَعَلناها تَذكِرَةً وَمَتاعًا لِلمُقوينَ


একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু।

[৭৪]

فَسَبِّح بِاسمِ رَبِّكَ العَظيمِ


অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।

[৭৫]

فَلا أُقسِمُ بِمَواقِعِ النُّجومِ


সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,

[৭৬]

وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَو تَعلَمونَ عَظيمٌ


আর নিশ্চয় এটি এক মহাকসম, যদি তোমরা জানতে,

[৭৭]

إِنَّهُ لَقُرآنٌ كَريمٌ


নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন,

[৭৮]

في كِتابٍ مَكنونٍ


যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,

[৭৯]

لا يَمَسُّهُ إِلَّا المُطَهَّرونَ


কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।

[৮০]

تَنزيلٌ مِن رَبِّ العالَمينَ


তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।

[৮১]

أَفَبِهذَا الحَديثِ أَنتُم مُدهِنونَ


তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ?

[৮২]

وَتَجعَلونَ رِزقَكُم أَنَّكُم تُكَذِّبونَ


আর তোমরা তোমাদের রিয্ক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে।

[৮৩]

فَلَولا إِذا بَلَغَتِ الحُلقومَ


সুতরাং কেন নয়- যখন রূহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়?

[৮৪]

وَأَنتُم حينَئِذٍ تَنظُرونَ


আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক।

[৮৫]

وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِنكُم وَلكِن لا تُبصِرونَ


আর তোমাদের চাইতে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

[৮৬]

فَلَولا إِن كُنتُم غَيرَ مَدينينَ


তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন

[৮৭]

تَرجِعونَها إِن كُنتُم صادِقينَ


ফিরিয়ে আনছ না রূহকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

[৮৮]

فَأَمّا إِن كانَ مِنَ المُقَرَّبينَ


অতঃপর সে যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হয়,

[৮৯]

فَرَوحٌ وَرَيحانٌ وَجَنَّتُ نَعيمٍ


তবে তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখময় জান্নাত।

[৯০]

وَأَمّا إِن كانَ مِن أَصحابِ اليَمينِ


আর সে যদি হয় ডানদিকের একজন,

[৯১]

فَسَلامٌ لَكَ مِن أَصحابِ اليَمينِ


তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমাকে সালাম, যেহেতু তুমি ডানদিকের একজন’।

[৯২]

وَأَمّا إِن كانَ مِنَ المُكَذِّبينَ الضّالّينَ


আর সে যদি হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট,

[৯৩]

فَنُزُلٌ مِن حَميمٍ


তবে তার মেহমানদারী হবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি দিয়ে,

[৯৪]

وَتَصلِيَةُ جَحيمٍ


আর জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্জ্বলনে।

[৯৫]

إِنَّ هذا لَهُوَ حَقُّ اليَقينِ


নিশ্চয় এটি অবধারিত সত্য।

[৯৬]

فَسَبِّح بِاسمِ رَبِّكَ العَظيمِ


অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।

Leave a comment