আল ক্বলম-কলম

সূরা:৬৮ ,পারা:২৯ ,পৃষ্ঠা:৫৬৪ ,আয়াত ৫২।

[১]

ن وَالقَلَمِ وَما يَسطُرونَ


নূন; কলমের কসম এবং তারা যা লিখে তার কসম!

[২]

ما أَنتَ بِنِعمَةِ رَبِّكَ بِمَجنونٍ


তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।

[৩]

وَإِنَّ لَكَ لَأَجرًا غَيرَ مَمنونٍ


আর নিশ্চয় তোমার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।

[৪]

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظيمٍ


আর নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।

[৫]

فَسَتُبصِرُ وَيُبصِرونَ


অতঃপর শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে এবং তারাও দেখতে পাবে-

[৬]

بِأَييِكُمُ المَفتونُ


তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত?

[৭]

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبيلِهِ وَهُوَ أَعلَمُ بِالمُهتَدينَ


নিশ্চয় তোমার রবই সম্যক পরিজ্ঞাত তাদের ব্যাপারে যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।

[৮]

فَلا تُطِعِ المُكَذِّبينَ


অতএব তুমি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করো না।

[৯]

وَدّوا لَو تُدهِنُ فَيُدهِنونَ


তারা কামনা করে, যদি তুমি আপোষকামী হও, তবে তারাও আপোষকারী হবে।

[১০]

وَلا تُطِع كُلَّ حَلّافٍ مَهينٍ


আর তুমি আনুগত্য করো না প্রত্যেক এমন ব্যক্তির যে অধিক কসমকারী, লাঞ্ছিত।

[১১]

هَمّازٍ مَشّاءٍ بِنَميمٍ


পিছনে নিন্দাকারী ও যে চোগলখুরী করে বেড়ায়,

[১২]

مَنّاعٍ لِلخَيرِ مُعتَدٍ أَثيمٍ


ভাল কাজে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী অপরাধী,

[১৩]

عُتُلٍّ بَعدَ ذلِكَ زَنيمٍ


দুষ্ট প্রকৃতির, তারপর জারজ।

[১৪]

أَن كانَ ذا مالٍ وَبَنينَ

বায়ান ফাউন্ডেশন:
এ কারণে যে, সে ছিল ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততির অধিকারী।

[১৫]

إِذا تُتلى عَلَيهِ آياتُنا قالَ أَساطيرُ الأَوَّلينَ


যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, এগুলো পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনীমাত্র।

[১৬]

سَنَسِمُهُ عَلَى الخُرطومِ


অচিরেই আমি তার শুঁড়ের* উপর দাগ দিয়ে দেব। \n\n*অর্থাৎ নাকের উপর। বিদ্রূপাত্মক অর্থে ব্যবহৃত।

[১৭]

إِنّا بَلَوناهُم كَما بَلَونا أَصحابَ الجَنَّةِ إِذ أَقسَموا لَيَصرِمُنَّها مُصبِحينَ


নিশ্চয় আমি এদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে। যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকাল বেলা বাগানের ফল আহরণ করবে।

[১৮]

وَلا يَستَثنونَ


আর তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি।

[১৯]

فَطافَ عَلَيها طائِفٌ مِن رَبِّكَ وَهُم نائِمونَ


অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক প্রদক্ষিণকারী (আগুন) বাগানের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে গেল, আর তারা ছিল ঘুমন্ত।

[২০]

فَأَصبَحَت كَالصَّريمِ


ফলে তা (পুড়ে) কালো বর্ণের হয়ে গেল।

[২১]

فَتَنادَوا مُصبِحينَ


তারপর সকাল বেলা তারা একে অপরকে ডেকে বলল,

[২২]

أَنِ اغدوا عَلى حَرثِكُم إِن كُنتُم صارِمينَ


‘তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে সকাল সকাল তোমাদের বাগানে যাও’।

[২৩]

فَانطَلَقوا وَهُم يَتَخافَتونَ


তারপর তারা চলল, নিম্নস্বরে একথা বলতে বলতে-

[২৪]

أَن لا يَدخُلَنَّهَا اليَومَ عَلَيكُم مِسكينٌ


যে, ‘আজ সেখানে তোমাদের কাছে কোন অভাবী যেন প্রবেশ করতে না পারে’।

[২৫]

وَغَدَوا عَلى حَردٍ قادِرينَ


আর তারা ভোর বেলা দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সক্ষম অবস্থায় (বাগানে) গেল।

[২৬]

فَلَمّا رَأَوها قالوا إِنّا لَضالّونَ


তারপর তারা যখন বাগানটি দেখল, তখন তারা বলল, ‘অবশ্যই আমরা পথভ্রষ্ট’।

[২৭]

بَل نَحنُ مَحرومونَ


‘বরং আমরা বঞ্চিত’।

[২৮]

قالَ أَوسَطُهُم أَلَم أَقُل لَكُم لَولا تُسَبِّحونَ


তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ব্যক্তিটি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করছ না’?

[২৯]

قالوا سُبحانَ رَبِّنا إِنّا كُنّا ظالِمينَ


তারা বলল, ‘আমরা আমাদের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম’।

[৩০]

فَأَقبَلَ بَعضُهُم عَلى بَعضٍ يَتَلاوَمونَ


তারপর তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল।

[৩১]

قالوا يا وَيلَنا إِنّا كُنّا طاغينَ


তারা বলল, ‘হায়, আমাদের ধ্বংস! নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম’।

[৩২]

عَسى رَبُّنا أَن يُبدِلَنا خَيرًا مِنها إِنّا إِلى رَبِّنا راغِبونَ


সম্ভবতঃ আমাদের রব আমাদেরকে এর চেয়েও উৎকৃষ্টতর বিনিময় দেবেন। অবশ্যই আমরা আমাদের রবের প্রতি আগ্রহী।

[৩৩]

كَذلِكَ العَذابُ وَلَعَذابُ الآخِرَةِ أَكبَرُ لَو كانوا يَعلَمونَ


এভাবেই হয় আযাব। আর পরকালের আযাব অবশ্যই আরো বড়, যদি তারা জানত।

[৩৪]

إِنَّ لِلمُتَّقينَ عِندَ رَبِّهِم جَنّاتِ النَّعيمِ


নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে নিআমতপূর্ণ জান্নাত।

[৩৫]

أَفَنَجعَلُ المُسلِمينَ كَالمُجرِمينَ


তবে কি আমি মুসলিমদেরকে (অনুগতদেরকে) অবাধ্যদের মতই গণ্য করব?

[৩৬]

ما لَكُم كَيفَ تَحكُمونَ


তোমাদের কী হল, তোমরা কিভাবে ফয়সালা করছ?

[৩৭]

أَم لَكُم كِتابٌ فيهِ تَدرُسونَ


তোমাদের কাছে কি কোন কিতাব আছে যাতে তোমরা পাঠ করছ?

[৩৮]

إِنَّ لَكُم فيهِ لَما تَخَيَّرونَ


যে, নিশ্চয় তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে যা তোমরা পছন্দ কর?

[৩৯]

أَم لَكُم أَيمانٌ عَلَينا بالِغَةٌ إِلى يَومِ القِيامَةِ إِنَّ لَكُم لَما تَحكُمونَ


অথবা তোমাদের জন্য কি আমার উপর কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন অঙ্গীকার রয়েছে যে, অবশ্যই তোমাদের জন্য থাকবে তোমরা যা ফয়সালা করবে?

[৪০]

سَلهُم أَيُّهُم بِذلِكَ زَعيمٌ


তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে এ ব্যাপারে যিম্মাদার?

[৪১]

أَم لَهُم شُرَكاءُ فَليَأتوا بِشُرَكائِهِم إِن كانوا صادِقينَ


অথবা তাদের জন্য কি অনেক শরীক আছে? তাহলে তারা তাদের শরীকদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।

[৪২]

يَومَ يُكشَفُ عَن ساقٍ وَيُدعَونَ إِلَى السُّجودِ فَلا يَستَطيعونَ


সে দিন পায়ের গোছা* উন্মোচন করা হবে। আর তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। \n\n*এ কথার ব্যাপারে ইমাম বুখারী একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তা হল, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের রব তাঁর পায়ের গোছা উন্মুক্ত করবেন, তখন প্রত্যেক মুমিন নর-নারী তাঁকে সিজদা করবে…।

[৪৩]

خاشِعَةً أَبصارُهُم تَرهَقُهُم ذِلَّةٌ وَقَد كانوا يُدعَونَ إِلَى السُّجودِ وَهُم سالِمونَ


তাদের দৃষ্টিসমূহ অবনত অবস্থায় থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ তাদেরকে তো নিরাপদ অবস্থায় সিজদা করার জন্য আহবান করা হত (তখন তো তারা সিজদা করেনি)।

[৪৪]

فَذَرني وَمَن يُكَذِّبُ بِهذَا الحَديثِ سَنَستَدرِجُهُم مِن حَيثُ لا يَعلَمونَ


অতএব ছেড়ে দাও আমাকে এবং যারা এ বাণী প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে। আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতে পারবে না।

[৪৫]

وَأُملي لَهُم إِنَّ كَيدي مَتينٌ


আর আমি তাদেরকে অবকাশ দেব। অবশ্যই আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ।

[৪৬]

أَم تَسأَلُهُم أَجرًا فَهُم مِن مَغرَمٍ مُثقَلونَ


তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাচ্ছ? ফলে তারা ঋণের কারণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

[৪৭]

أَم عِندَهُمُ الغَيبُ فَهُم يَكتُبونَ


অথবা তাদের কাছে কি ‘গায়েব’ (লওহে মাহফুয) আছে যে, তারা লিখে রাখছে।

[৪৮]

فَاصبِر لِحُكمِ رَبِّكَ وَلا تَكُن كَصاحِبِ الحوتِ إِذ نادى وَهُوَ مَكظومٌ


অতএব তুমি তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালার মত হয়ো না, যখন সে দুঃখে কাতর হয়ে ডেকেছিল।

[৪৯]

لَولا أَن تَدارَكَهُ نِعمَةٌ مِن رَبِّهِ لَنُبِذَ بِالعَراءِ وَهُوَ مَذمومٌ


যদি তার রবের অনুগ্রহ তার কাছে না পৌঁছত, তাহলে সে নিন্দিত অবস্থায় উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।

[৫০]

فَاجتَباهُ رَبُّهُ فَجَعَلَهُ مِنَ الصّالِحينَ


তারপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।

[৫১]

وَإِن يَكادُ الَّذينَ كَفَروا لَيُزلِقونَكَ بِأَبصارِهِم لَمّا سَمِعُوا الذِّكرَ وَيَقولونَ إِنَّهُ لَمَجنونٌ


আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, ‘এ তো এক পাগল’।

[৫২]

وَما هُوَ إِلّا ذِكرٌ لِلعالَمينَ


আর এ কুরআন তো সৃষ্টিকুলের জন্য শুধুই উপদেশবাণী।

Leave a comment