আল মাআরিজ-উন্নয়নের সোপান

সূরা:৭০ ,পারা:২৯ ,পৃষ্ঠা:৫৬৮ ,আয়াত ৪৪।

[১]

سَأَلَ سائِلٌ بِعَذابٍ واقِعٍ


এক প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করল এমন আযাব সম্পর্কে, যা আপতিত হবে-* \n\n*আয়াতটির আরেক অর্থ হল, ‘একজন প্রার্থনাকারী এমন আযাবের দো‘আ করল যা আপতিত হবে’।

[২]

لِلكافِرينَ لَيسَ لَهُ دافِعٌ


কাফিরদের উপর, যার কোন প্রতিরোধকারী নেই।

[৩]

مِنَ اللَّهِ ذِي المَعارِجِ


ঊর্ধ্বারোহণের সোপানসমূহের অধিকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে,

[৪]

تَعرُجُ المَلائِكَةُ وَالرّوحُ إِلَيهِ في يَومٍ كانَ مِقدارُهُ خَمسينَ أَلفَ سَنَةٍ


ফেরেশতাগণ ও রূহ এমন এক দিনে আল্লাহর পানে ঊর্ধ্বগামী হয়, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।

[৫]

فَاصبِر صَبرًا جَميلًا


অতএব তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ কর।

[৬]

إِنَّهُم يَرَونَهُ بَعيدًا


তারা তো এটিকে সুদূরপরাহত মনে করে।

[৭]

وَنَراهُ قَريبًا


আর আমি দেখছি তা আসন্ন।

[৮]

يَومَ تَكونُ السَّماءُ كَالمُهلِ


সেদিন আসমান হয়ে যাবে গলিত ধাতুর ন্যায়।

[৯]

وَتَكونُ الجِبالُ كَالعِهنِ


এবং পর্বতসমূহ হয়ে যাবে রঙিন পশমের ন্যায়।

[১০]

وَلا يَسأَلُ حَميمٌ حَميمًا


আর অন্তরঙ্গ বন্ধু অন্তরঙ্গ বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করবে না।

[১১]

يُبَصَّرونَهُم يَوَدُّ المُجرِمُ لَو يَفتَدي مِن عَذابِ يَومِئِذٍ بِبَنيهِ


তাদেরকে একে অপরের দৃষ্টিগোচর করা হবে। অপরাধী চাইবে যদি সে সেদিনের শাস্তি থেকে তার সন্তান-সন্ততিকে পণ হিসেবে দিয়ে মুক্তি পেতে,

[১২]

وَصاحِبَتِهِ وَأَخيهِ

বায়ান ফাউন্ডেশন:
আর তার স্ত্রী ও ভাইকে,

[১৩]

وَفَصيلَتِهِ الَّتي تُؤويهِ

বায়ান ফাউন্ডেশন:
আর তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত।

[১৪]

وَمَن فِي الأَرضِ جَميعًا ثُمَّ يُنجيهِ


আর যমীনে যারা আছে তাদের সবাইকে, যাতে এটি তাকে রক্ষা করে।

[১৫]

كَلّا إِنَّها لَظى


কখনো নয়! এটিতো লেলিহান আগুন।

[১৬]

نَزّاعَةً لِلشَّوى


যা মাথার চামড়া খসিয়ে নেবে।

[১৭]

تَدعو مَن أَدبَرَ وَتَوَلّى


জাহান্নাম তাকে ডাকবে যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল ।

[১৮]

وَجَمَعَ فَأَوعى


আর সম্পদ জমা করেছিল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করে রেখেছিল।

[১৯]

إِنَّ الإِنسانَ خُلِقَ هَلوعًا


নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে।

[২০]

إِذا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزوعًا


যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত।

[২১]

وَإِذا مَسَّهُ الخَيرُ مَنوعًا


আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তখন সে হয়ে পড়ে অতিশয় কৃপণ।

[২২]

إِلَّا المُصَلّينَ


সালাত আদায়কারীগণ ছাড়া,

[২৩]

الَّذينَ هُم عَلى صَلاتِهِم دائِمونَ


যারা তাদের সালাতের ক্ষেত্রে নিয়মিত।

[২৪]

وَالَّذينَ في أَموالِهِم حَقٌّ مَعلومٌ


আর যাদের ধন-সম্পদে রয়েছে নির্ধারিত হক,

[২৫]

لِلسّائِلِ وَالمَحرومِ


যাচঞাকারী ও বঞ্চিতের,

[২৬]

وَالَّذينَ يُصَدِّقونَ بِيَومِ الدّينِ


আর যারা প্রতিফল-দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।

[২৭]

وَالَّذينَ هُم مِن عَذابِ رَبِّهِم مُشفِقونَ


আর যারা তাদের রবের আযাব সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত।

[২৮]

إِنَّ عَذابَ رَبِّهِم غَيرُ مَأمونٍ


নিশ্চয় তাদের রবের আযাব থেকে কেউ নিরাপদ নয়।

[২৯]

وَالَّذينَ هُم لِفُروجِهِم حافِظونَ


আর যারা তাদের যৌনাংগসমূহের হিফাযতকারী।

[৩০]

إِلّا عَلى أَزواجِهِم أَو ما مَلَكَت أَيمانُهُم فَإِنَّهُم غَيرُ مَلومينَ


তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে সে দাসীগণের ক্ষেত্র ছাড়া। তাহলে তারা সে ক্ষেত্রে নিন্দনীয় হবে না।

[৩১]

فَمَنِ ابتَغى وَراءَ ذلِكَ فَأُولئِكَ هُمُ العادونَ


তবে যে কেউ এদের বাইরে অন্যকে কামনা করে, তারাই তো সীমালংঘনকারী।

[৩২]

وَالَّذينَ هُم لِأَماناتِهِم وَعَهدِهِم راعونَ


আর যারা নিজদের আমানত ও ওয়াদা রক্ষাকারী,

[৩৩]

وَالَّذينَ هُم بِشَهاداتِهِم قائِمونَ


আর যারা তাদের সাক্ষ্যদানে অটল,

[৩৪]

وَالَّذينَ هُم عَلى صَلاتِهِم يُحافِظونَ


আর যারা নিজদের সালাতের হিফাযত করে,

[৩৫]

أُولئِكَ في جَنّاتٍ مُكرَمونَ


তারাই জান্নাতসমূহে সম্মানিত হবে।

[৩৬]

فَمالِ الَّذينَ كَفَروا قِبَلَكَ مُهطِعينَ


কাফিরদের কী হল যে, তারা তোমার দিকে ছুটছে,

[৩৭]

عَنِ اليَمينِ وَعَنِ الشِّمالِ عِزينَ


ডানে ও বামে দলে দলে?

[৩৮]

أَيَطمَعُ كُلُّ امرِئٍ مِنهُم أَن يُدخَلَ جَنَّةَ نَعيمٍ


তাদের প্রত্যেক ব্যক্তি কি আশা করে যে, তাকে প্রাচুর্যময় জান্নাতে দাখিল করা হবে?

[৩৯]

كَلّا إِنّا خَلَقناهُم مِمّا يَعلَمونَ


কখনো নয়, নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি তারা যা জানে তা থেকে।

[৪০]

فَلا أُقسِمُ بِرَبِّ المَشارِقِ وَالمَغارِبِ إِنّا لَقادِرونَ


অতএব, আমি উদয়স্থল ও অস্তাচলসমূহের রবের কসম করছি যে, আমি অবশ্যই সক্ষম!

[৪১]

عَلى أَن نُبَدِّلَ خَيرًا مِنهُم وَما نَحنُ بِمَسبوقينَ


তাদের চাইতে উত্তমদেরকে তাদের স্থলে নিয়ে আসতে এবং আমি অক্ষম নই।

[৪২]

فَذَرهُم يَخوضوا وَيَلعَبوا حَتّى يُلاقوا يَومَهُمُ الَّذي يوعَدونَ


অতএব তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা (বেহুদা কথায়) মত্ত থাকুক আর খেল-তামাশা করুক যতক্ষণ না তারা দেখা পায় সেদিনের, যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে।

[৪৩]

يَومَ يَخرُجونَ مِنَ الأَجداثِ سِراعًا كَأَنَّهُم إِلى نُصُبٍ يوفِضونَ


যেদিন দ্রুতবেগে তারা কবর থেকে বের হয়ে আসবে, যেন তারা কোন লক্ষ্যের দিকে ছুটছে,

[৪৪]

خاشِعَةً أَبصارُهُم تَرهَقُهُم ذِلَّةٌ ذلِكَ اليَومُ الَّذي كانوا يوعَدونَ


অবনত চোখে। লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে! এটিই সেদিন যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল।

Leave a comment