আল হাক্কাহ-নিশ্চিত সত্য

সূরা:৬৯ ,পারা:২৯ ,পৃষ্ঠা:৫৬৬ ,আয়াত ৫২।

[১]

الحاقَّةُ


অবশ্যম্ভাবী ঘটনা (কিয়ামত)।

[২]

مَا الحاقَّةُ


অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?

[৩]

وَما أَدراكَ مَا الحاقَّةُ


আর কিসে তোমাকে জানাবে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?

[৪]

كَذَّبَت ثَمودُ وَعادٌ بِالقارِعَةِ


সামূদ ও ‘আদ সম্প্রদায় সজোরে আঘাতকারী (কিয়ামত)কে অস্বীকার করেছিল।

[৫]

فَأَمّا ثَمودُ فَأُهلِكوا بِالطّاغِيَةِ


আর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল।

[৬]

وَأَمّا عادٌ فَأُهلِكوا بِريحٍ صَرصَرٍ عاتِيَةٍ


আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঠান্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা।

[৭]

سَخَّرَها عَلَيهِم سَبعَ لَيالٍ وَثَمانِيَةَ أَيّامٍ حُسومًا فَتَرَى القَومَ فيها صَرعى كَأَنَّهُم أَعجازُ نَخلٍ خاوِيَةٍ


তিনি তাদের উপর তা সাত রাত ও আট দিন বিরামহীনভাবে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে যেন তারা সারশূন্য খেজুর গাছের মত।

[৮]

فَهَل تَرى لَهُم مِن باقِيَةٍ


তারপর তুমি কি তাদের জন্য কোন অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও?

[৯]

وَجاءَ فِرعَونُ وَمَن قَبلَهُ وَالمُؤتَفِكاتُ بِالخاطِئَةِ


আর ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল।

[১০]

فَعَصَوا رَسولَ رَبِّهِم فَأَخَذَهُم أَخذَةً رابِيَةً


আর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল। সুতরাং তিনি তাদেরকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।

[১১]

إِنّا لَمّا طَغَى الماءُ حَمَلناكُم فِي الجارِيَةِ


যখন জলোচ্ছ্বাস হল, অবশ্যই তখন আমি তোমাদেরকে নৌযানে আরোহণ করিয়েছি।

[১২]

لِنَجعَلَها لَكُم تَذكِرَةً وَتَعِيَها أُذُنٌ واعِيَةٌ


একে তোমাদের নিমিত্তে উপদেশ বানানোর জন্য এবং সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করার জন্য।

[১৩]

فَإِذا نُفِخَ فِي الصّورِ نَفخَةٌ واحِدَةٌ


অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুঁক।

[১৪]

وَحُمِلَتِ الأَرضُ وَالجِبالُ فَدُكَّتا دَكَّةً واحِدَةً


আর যমীন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

[১৫]

فَيَومَئِذٍ وَقَعَتِ الواقِعَةُ


ফলে সে দিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে।

[১৬]

وَانشَقَّتِ السَّماءُ فَهِيَ يَومَئِذٍ واهِيَةٌ


আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত।

[১৭]

وَالمَلَكُ عَلى أَرجائِها وَيَحمِلُ عَرشَ رَبِّكَ فَوقَهُم يَومَئِذٍ ثَمانِيَةٌ


ফেরেশতাগণ আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।

[১৮]

يَومَئِذٍ تُعرَضونَ لا تَخفى مِنكُم خافِيَةٌ


সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না।

[১৯]

فَأَمّا مَن أوتِيَ كِتابَهُ بِيَمينِهِ فَيَقولُ هاؤُمُ اقرَءوا كِتابِيَه


তখন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ’।

[২০]

إِنّي ظَنَنتُ أَنّي مُلاقٍ حِسابِيَه


‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হব’।

[২১]

فَهُوَ في عيشَةٍ راضِيَةٍ


সুতরাং সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে।

[২২]

في جَنَّةٍ عالِيَةٍ


সুউচ্চ জান্নাতে,

[২৩]

قُطوفُها دانِيَةٌ


তার ফলসমূহ নিকটবর্তী থাকবে।

[২৪]

كُلوا وَاشرَبوا هَنيئًا بِما أَسلَفتُم فِي الأَيّامِ الخالِيَةِ


(বলা হবে,) ‘বিগত দিনসমূহে তোমরা যা অগ্রে প্রেরণ করেছ তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর’।

[২৫]

وَأَمّا مَن أوتِيَ كِتابَهُ بِشِمالِهِ فَيَقولُ يا لَيتَني لَم أوتَ كِتابِيَه


কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘হায়, আমাকে যদি আমার আমলনামা দেয়া না হত’!

[২৬]

وَلَم أَدرِ ما حِسابِيَه
‘আর যদি আমি না জানতাম আমার হিসাব’!

[২৭]

يا لَيتَها كانَتِ القاضِيَةَ


‘হায়, মৃত্যুই যদি আমার চূড়ান্ত ফয়সালা হত’!

[২৮]

ما أَغنى عَنّي مالِيَه


‘আমার সম্পদ আমার কোন কাজেই আসল না!’

[২৯]

هَلَكَ عَنّي سُلطانِيَه


‘আমার ক্ষমতাও আমার থেকে চলে গেল!

[৩০]

خُذوهُ فَغُلّوهُ


(বলা হবে,) ‘তাকে ধর অতঃপর তাকে বেড়ি পরিয়ে দাও।’

[৩১]

ثُمَّ الجَحيمَ صَلّوهُ


‘তারপর তাকে তোমরা নিক্ষেপ কর জাহান্নামে’।

[৩২]

ثُمَّ في سِلسِلَةٍ ذَرعُها سَبعونَ ذِراعًا فَاسلُكوهُ


‘তারপর তাকে বাঁধ এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত।’

[৩৩]

إِنَّهُ كانَ لا يُؤمِنُ بِاللَّهِ العَظيمِ


সে তো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না,

[৩৪]

وَلا يَحُضُّ عَلى طَعامِ المِسكينِ


আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না।

[৩৫]

فَلَيسَ لَهُ اليَومَ هاهُنا حَميمٌ
অতএব আজ এখানে তার কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না।

[৩৬]

وَلا طَعامٌ إِلّا مِن غِسلينٍ


আর ক্ষত-নিংসৃত পূঁজ ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না,

[৩৭]

لا يَأكُلُهُ إِلَّا الخاطِئونَ


অপরাধীরাই শুধু তা খাবে।

[৩৮]

فَلا أُقسِمُ بِما تُبصِرونَ


অতএব তোমরা যা দেখছ, আমি তার কসম করছি।

[৩৯]

وَما لا تُبصِرونَ


আর যা তোমরা দেখছ না তারও,

[৪০]

إِنَّهُ لَقَولُ رَسولٍ كَريمٍ


নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী।

[৪১]

وَما هُوَ بِقَولِ شاعِرٍ قَليلًا ما تُؤمِنونَ


আর এটি কোন কবির কথা নয়। তোমরা কমই বিশ্বাস কর।

[৪২]

وَلا بِقَولِ كاهِنٍ قَليلًا ما تَذَكَّرونَ


আর কোন গণকের কথাও নয়। তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ কর।

[৪৩]

تَنزيلٌ مِن رَبِّ العالَمينَ


এটি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।

[৪৪]

وَلَو تَقَوَّلَ عَلَينا بَعضَ الأَقاويلِ

বায়ান ফাউন্ডেশন:
যদি সে আমার নামে কোন মিথ্যা রচনা করত,

[৪৫]

لَأَخَذنا مِنهُ بِاليَمينِ


তবে আমি তার ডান হাত পাকড়াও করতাম।

[৪৬]

ثُمَّ لَقَطَعنا مِنهُ الوَتينَ


তারপর অবশ্যই আমি তার হৃদপিন্ডের শিরা কেটে ফেলতাম।

[৪৭]

فَما مِنكُم مِن أَحَدٍ عَنهُ حاجِزينَ


অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তাকে রক্ষা করার থাকত না।

[৪৮]

وَإِنَّهُ لَتَذكِرَةٌ لِلمُتَّقينَ
আর এটিতো মুত্তাকীদের জন্য এক নিশ্চিত উপদেশ।

[৪৯]

وَإِنّا لَنَعلَمُ أَنَّ مِنكُم مُكَذِّبينَ


আর আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কতক রয়েছে মিথ্যারোপকারী।

[৫০]

وَإِنَّهُ لَحَسرَةٌ عَلَى الكافِرينَ


আর এটি নিশ্চয় কাফিরদের জন্য এক নিশ্চিত অনুশোচনার কারণ।

[৫১]

وَإِنَّهُ لَحَقُّ اليَقينِ


আর নিশ্চয় এটি সুনিশ্চিত সত্য।

[৫২]

فَسَبِّح بِاسمِ رَبِّكَ العَظيمِ


অতএব তুমি তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।

Leave a comment